আপনি কি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটে নিরাপদ ও আরামদায়ক রাতের ভ্রমণের কথা ভাবছেন? তাহলে তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী আপনার জানা থাকা অত্যন্ত জরুরি। ঢাকা এবং চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াতকারী অন্যতম জনপ্রিয় ও বিলাসবহুল একটি আন্তঃনগর ট্রেন হলো তূর্ণা এক্সপ্রেস। রাতের বেলায় নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য এই ট্রেনের জুড়ি মেলা ভার। আজ আমরা এই আর্টিকেলে তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়ার তালিকা, স্টপেজ এবং টিকিট কাটার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবো।
- ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে ছাড়ার নির্দিষ্ট সময়।
- সকল শ্রেণীর আসনের আপডেটেড ভাড়ার তালিকা।
- ট্রেনটির স্টপেজ স্টেশন এবং ছুটির দিনের তথ্য।
- অনলাইনে সহজে টিকিট বুকিংয়ের নিয়ম।
তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচিতি ও সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক পরিচালিত একটি ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন হলো তূর্ণা এক্সপ্রেস। এটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম (ট্রেন নং ৭৪২) এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা (ট্রেন নং ৭৪১) রুটে প্রতিদিন চলাচল করে। রাতের বেলা যাতায়াতকারী যাত্রীদের কাছে এই ট্রেনটি সবচেয়ে বেশি সমাদৃত। এর কারণ হলো, রাতে ট্রেনে উঠলে সকালে একদম ফ্রেশ অবস্থায় গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। ট্রেনটির নামকরণের পেছনে এর দ্রুতগতি ও আভিজাত্যের একটি সম্পর্ক রয়েছে। আধুনিক বগি এবং উন্নত যাত্রীসেবার কারণে তূর্ণা এক্সপ্রেস সবসময় যাত্রীদের প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকে।
আরও পড়ুন: সিলেট টু চট্টগ্রাম ট্রেনের কেবিন ভাড়া কত | সময়সূচি ও টিকিট
তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
আপনার ভ্রমণকে নির্বিঘ্ন করতে ভ্রমণের আগেই তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা উচিত। বাংলাদেশ রেলওয়ে সম্প্রতি যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ট্রেনের সময়সূচীতে কিছুটা পরিবর্তন বা আপডেট এনেছে যা ২০২৬ সালের জন্যও প্রযোজ্য। ট্রেনটি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং যথাসময়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। নিচে ঢাকা ও চট্টগ্রাম উভয় প্রান্ত থেকে ছেড়ে যাওয়ার সময় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪২) রাতের বেলা ছাড়ে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে এটি পরদিন সকালে চট্টগ্রামে পৌঁছায়। এই ট্রেনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর কোনো সাপ্তাহিক ছুটির দিন নেই।
| ট্রেনের নাম ও নম্বর | প্রারম্ভিক স্টেশন | ছাড়ার সময় | গন্তব্য স্টেশন | পৌঁছানোর সময় | সাপ্তাহিক ছুটি |
|---|---|---|---|---|---|
| তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪২) | ঢাকা (কমলাপুর) | রাত ১১:৩০ মিনিট | চট্টগ্রাম | সকাল ০৬:২০ মিনিট | নেই |
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
একইভাবে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১) রাতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে। সারারাত ভ্রমণের পর এটি ভোরে ঢাকায় পৌঁছায়। এই রুটেও ট্রেনটির কোনো সাপ্তাহিক বন্ধের দিন নেই।
| ট্রেনের নাম ও নম্বর | প্রারম্ভিক স্টেশন | ছাড়ার সময় | গন্তব্য স্টেশন | পৌঁছানোর সময় | সাপ্তাহিক ছুটি |
|---|---|---|---|---|---|
| তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১) | চট্টগ্রাম | রাত ১১:৩০ মিনিট | ঢাকা (কমলাপুর) | সকাল ০৬:১৫ মিনিট | নেই |
তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া ২০২৬ ও আসন শ্রেণি
আপনার ভ্রমণের বাজেট পরিকল্পনা করতে তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা দরকার। বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, আসন শ্রেণির ওপর ভিত্তি করে ভাড়ার তারতম্য হয়ে থাকে। তূর্ণা এক্সপ্রেসে সাধারণত শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার), এসি সিট এবং এসি বার্থ—এই চার ধরনের আসন ব্যবস্থা রয়েছে। নিচে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের বর্তমান ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো (ভ্যাটসহ):
| আসন শ্রেণি (Class) | বর্তমান ভাড়া (টাকা) |
|---|---|
| শোভন চেয়ার (Shovan Chair) | ৩৪৫ টাকা |
| স্নিগ্ধা (Snigdha – AC) | ৬৫৬ টাকা |
| এসি সিট (AC Seat) | ৭৮৮ টাকা |
| এসি বার্থ (AC Berth) | ১১৮০ টাকা |
নোট: বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। ভাড়ার সাথে অতিরিক্ত ১৫% ভ্যাট প্রযোজ্য হতে পারে।
তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ স্টেশন তালিকা
দীর্ঘ যাত্রাপথে তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী ট্রেনটি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। আপনি যদি মাঝের কোনো স্টেশন থেকে উঠতে বা নামতে চান, তবে স্টপেজগুলো জেনে রাখা প্রয়োজন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে বা আসার পথে ট্রেনটি যেসব স্টেশনে থামে তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
- ঢাকা (কমলাপুর)
- ঢাকা বিমানবন্দর
- ভৈরব বাজার
- আশুগঞ্জ
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া
- আখাউড়া জংশন
- কুমিল্লা
- লাকসাম জংশন
- ফেনী জংশন
- চট্টগ্রাম
প্রতিটি স্টেশনে ট্রেনটি সাধারণত ৩ থেকে ৫ মিনিট অবস্থান করে। তাই নির্দিষ্ট স্টেশনে ট্রেন আসার অন্তত ৩০ মিনিট আগে প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত থাকা বাঞ্ছনীয়। সঠিক তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী জানা থাকলে আপনার স্টেশনে পৌঁছাতে অনেক সুবিধা হবে।
তূর্ণা এক্সপ্রেসে টিকিট বুকিং করার নিয়ম
বর্তমানে ট্রেনের টিকিট কাটা অত্যন্ত সহজ। ঘরে বসেই আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের টিকিট বুক করতে পারেন। টিকিট বুকিং করার প্রধান উপায়গুলো হলো:
- অনলাইন বুকিং: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) এ প্রবেশ করে আপনার এনআইডি দিয়ে নিবন্ধন করুন। এরপর গন্তব্য ও তারিখ সিলেক্ট করে সহজেই টিকিট কাটতে পারেন।
- রেল সেবা অ্যাপ: স্মার্টফোনে ‘Rail Sheba’ অ্যাপ ডাউনলোড করে খুব দ্রুত অনলাইনে টিকিট কেনা যায়।
- কাউন্টার থেকে: আপনি চাইলে যেকোনো রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকেও সরাসরি টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন। ভ্রমণের ১০ দিন আগে থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়।
তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রীসেবা ও সুবিধা
তূর্ণা এক্সপ্রেস একটি বিলাসবহুল ট্রেন হওয়ায় যাত্রীদের জন্য এতে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। ট্রেনের ভেতর খাবার গাড়ির (ক্যাটারিং) ব্যবস্থা রয়েছে, যেখান থেকে আপনি চা, কফি, স্ন্যাকস বা রাতের খাবার কিনে খেতে পারবেন। এছাড়া প্রতিটি বগিতে পরিষ্কার শৌচাগার, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং নিরাপত্তার জন্য রেল পুলিশের ব্যবস্থা রয়েছে। এসি বগিগুলোতে যাত্রীদের সুবিধার জন্য পরিচ্ছন্ন কম্বল ও বালিশ সরবরাহ করা হয়, যা আপনার রাতের ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক করে তোলে।
তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনে ভ্রমণের কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস
আপনার ভ্রমণকে নিরাপদ ও আনন্দদায়ক করতে কিছু ছোট কিন্তু কার্যকরী টিপস মনে রাখতে পারেন:
- যেহেতু তূর্ণা এক্সপ্রেসের টিকিটের চাহিদা অনেক বেশি, তাই ভ্রমণের তারিখ চূড়ান্ত হলে দ্রুত অগ্রিম টিকিট কেটে রাখুন।
- ভ্রমণের সময় অবশ্যই আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম নিবন্ধন সাথে রাখুন। চেকিংয়ের সময় এটি লাগতে পারে।
- তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী ট্রেন ছাড়ার কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
- অপরিচিত কারও দেওয়া কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।
তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
১. তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটির দিন কবে?
তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের কোনো সাপ্তাহিক ছুটির দিন নেই। এটি সপ্তাহের ৭ দিনই চলাচল করে।
২. ঢাকা থেকে তূর্ণা এক্সপ্রেস কখন ছাড়ে?
ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতিদিন রাত ১১:৩০ মিনিটে ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
৩. তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া কত?
আসন শ্রেণির ওপর ভিত্তি করে তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া ভিন্ন হয়। শোভন চেয়ার ৩৪৫ টাকা, স্নিগ্ধা ৬৫৬ টাকা, এসি সিট ৭৮৮ টাকা এবং এসি বার্থ ১১৮০ টাকা।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনের কেবিন ভাড়া ও টিকিট বুকিং গাইড
লেখকের শেষ কথা
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াতের জন্য তূর্ণা এক্সপ্রেস হতে পারে আপনার সেরা সঙ্গী। বিশেষ করে যারা রাতে ভ্রমণ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাদের জন্য এই ট্রেনটি দারুণ। আশা করি, আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়ার তালিকা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য আপনি বিস্তারিতভাবে জানতে পেরেছেন। এরপরও যদি আপনার কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আপনার ভ্রমণ নিরাপদ ও আনন্দদায়ক হোক!