সাদা এপ্রন পরে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন কি আপনার চোখেও ভাসে? হাসপাতালের করিডোরে ব্যস্ত পায়ে হেঁটে চলা, আর অসুস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর তৃপ্তি—এই দৃশ্যগুলো কি আপনাকে টানে? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে আপনার সেই স্বপ্নের প্রথম ধাপ হতে যাচ্ছে নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি 2026। প্রতি বছর হাজারো শিক্ষার্থী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে এই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য। ডাক্তার হওয়ার পাশাপাশি নার্সিং পেশাও এখন সম্মানের ও সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত। কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাবে অনেকেই এই সুযোগটি হারান।
চিন্তার কোনো কারণ নেই! আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি নিয়ে খুঁটিনাটি সব আলোচনা করব। কবে সার্কুলার দিবে, কীভাবে আবেদন করবেন, আর প্রস্তুতির কৌশলই বা কেমন হওয়া উচিত—সবই থাকছে এখানে। অনেকেই ভাবেন, নার্সিং পড়া কি খুব কঠিন? বা আর্টস থেকে পড়ে কি নার্স হওয়া যায়? আরে ভাই, এসব প্রশ্নের উত্তর জানলে আপনি অবাকই হবেন! চলুন, আর দেরি না করে নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি 2026 নিয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক, যা আপনার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি 2026 প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ
এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন, ভাইয়া সার্কুলার কবে দিবে? সাধারণত প্রতি বছরের শুরুতে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থাকে। তবে ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ধারণা করা হচ্ছে, জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে অথবা ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি 2026 প্রকাশিত হতে পারে।
অবশ্য, এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। ফলাফল প্রকাশের ১-২ মাসের মধ্যেই সাধারণত আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাই তারিখ নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তা না করে, এখন থেকেই প্রস্তুতির টেবিলে মন দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। মনে রাখবেন, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি সময় পাওয়া যায় না।
আবেদন যোগ্যতা ও শিক্ষাগত শর্ত
নার্সিংয়ে পড়ার জন্য ৩টি প্রধান কোর্স রয়েছে: বিএসসি ইন নার্সিং, ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি, এবং ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি। প্রতিটি কোর্সের যোগ্যতা ভিন্ন। নিচে একটি ছকের মাধ্যমে বিষয়টি সহজ করে তুলে ধরা হলো:
| কোর্সের নাম | বিভাগ (গ্রুপ) | ন্যূনতম জিপিএ (এসএসসি + এইচএসসি) |
|---|---|---|
| বিএসসি ইন নার্সিং | শুধুমাত্র বিজ্ঞান বিভাগ | মোট ৭.০০ (আলাদাভাবে ৩.০০) |
| ডিপ্লোমা ইন নার্সিং | যেকোনো বিভাগ | মোট ৬.০০ (আলাদাভাবে ২.৫০) |
| ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি | যেকোনো বিভাগ (শুধুমাত্র নারী) | মোট ৬.০০ (আলাদাভাবে ২.৫০) |
বিএসসি কোর্সে আবেদনের জন্য জীববিজ্ঞান বিষয়টি এইচএসসিতে থাকা বাধ্যতামূলক এবং এতে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে। ডিপ্লোমা কোর্সে বিজ্ঞান, মানবিক, বা ব্যবসায় শিক্ষা—সব বিভাগের শিক্ষার্থীরাই আবেদন করতে পারবেন। নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর এই শর্তগুলো ভালো করে দেখে নেওয়া জরুরি।
আবেদন প্রক্রিয়া: যেভাবে আবেদন করবেন
ডিজিটাল বাংলাদেশে এখন সব কিছুই অনলাইনের মাধ্যমে হয়। নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি 2026 অনুযায়ী আবেদন প্রক্রিয়াটি হবে টেলিটক প্রিপেইড সিমের মাধ্যমে অথবা অনলাইনের নির্দিষ্ট পোর্টালে। প্রক্রিয়াটি সাধারণত এরকম হয়:
- প্রথমে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (DGME) প্রবেশ করতে হবে।
- সেখানে অ্যাপ্লাই নাও বাটনে ক্লিক করে এসএসসি ও এইচএসসির রোল নম্বর দিয়ে লগইন করতে হবে।
- এরপর আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি (৩০০x৩০০ পিক্সেল) এবং স্বাক্ষর (৩০০x৮০ পিক্সেল) আপলোড করতে হবে।
- সব তথ্য সঠিক থাকলে সাবমিট করে একটি ইউজার আইডি পাবেন।
খেয়াল রাখবেন, আবেদন ফরম পূরণ করার সময় কলেজের চয়েস লিস্ট খুব সাবধানে দিতে হবে। কারণ একবার সাবমিট করলে তা পরিবর্তন করা বেশ ঝামেলার।
আবেদন ফি ও পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য
আবেদন তো করলেন, কিন্তু টাকা জমা না দিলে কিন্তু আবেদন বাতিল হয়ে যাবে! নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি 2026 অনুযায়ী বিএসসি কোর্সের জন্য ফি সাধারণত ৭০০ টাকা এবং ডিপ্লোমা কোর্সের জন্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে (এটি পরিবর্তন সাপেক্ষ)।
পেমেন্ট করার জন্য আপনার একটি টেলিটক প্রিপেইড সিম লাগবে। মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করতে হবে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে এবং ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি মেসেজে একটি পিন নম্বর আসবে, যা দিয়ে দ্বিতীয় মেসেজ পাঠিয়ে পেমেন্ট নিশ্চিত করতে হবে। পেমেন্ট সম্পন্ন হলে আপনি একটি কনফার্মেশন এসএমএস পাবেন, যেটা যত্ন করে রেখে দেবেন।
পরীক্ষার ধরণ ও বিষয়বস্তু
নার্সিং ভর্তি পরীক্ষা মূলত ১০০ নম্বরের এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। সময় থাকে ১ ঘণ্টা। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কোনো নম্বর কাটা যাবে কি না, তা নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি 2026 এ উল্লেখ থাকবে, তবে সাধারণত নেগেটিভ মার্কিং থাকে না।
বিষয়ভিত্তিক মান বণ্টন সাধারণত এমন হয়:
- বাংলা: ২০ নম্বর
- ইংরেজি: ২০ নম্বর
- সাধারণ জ্ঞান: ২০ নম্বর (বিএসসিতে), ২৫ নম্বর (ডিপ্লোমায়)
- বিজ্ঞান/গণিত: বিএসসিতে পদার্থ, রসায়ন, ও জীববিজ্ঞান থেকে প্রশ্ন আসে। আর ডিপ্লোমায় সাধারণ বিজ্ঞান ও গণিত থেকে প্রশ্ন থাকে।
সুতরাং বুঝতেই পারছেন, শুধু বিজ্ঞানের বিষয় নয়, বাংলা ও ইংরেজির ওপরও ভালো দখল থাকা চাই।
পরীক্ষার সময়সূচি ও স্থান
নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোডের তারিখ দেওয়া হবে। পরীক্ষা সাধারণত শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়, যাতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে সুবিধা হয়। সারা দেশের প্রধান বিভাগীয় শহর এবং কিছু জেলা শহরে এই পরীক্ষার কেন্দ্র থাকে। আবেদনের সময়ই আপনাকে কেন্দ্রের পছন্দক্রম দিতে হবে।
আরে হ্যাঁ, পরীক্ষার দিন অন্তত ১ ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকা ভালো। কারণ শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করলে জানা জিনিসও ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
প্রয়োজনীয় নথি ও রেজিস্ট্রেশন
পরীক্ষার হলে যাওয়ার সময় এবং পরবর্তীতে ভর্তির সময় কিছু কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়। নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি 2026 এর নির্দেশিকা অনুযায়ী অ্যাডমিট কার্ড অবশ্যই রঙিন প্রিন্ট করে নিবেন। এছাড়া এসএসসি ও এইচএসসির রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও ট্রান্সক্রিপ্ট সাথে রাখা ভালো।
ভর্তির সময় মূল মার্কশিট, প্রশংসাপত্র এবং নাগরিকত্ব সনদ বা জন্ম নিবন্ধনের কপি প্রয়োজন হবে। তাই এই কাগজগুলো এখন থেকেই গুছিয়ে রাখুন, যাতে শেষ সময়ে দৌড়াদৌড়ি করতে না হয়।
ফলাফল প্রকাশ ও মেরিট তালিকা
পরীক্ষা দেওয়ার পর বুক ধড়ফড় করা সেই সময়টা! সাধারণত পরীক্ষার ৩-৭ দিনের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষার সাথে এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএ-র ওপর ভিত্তি করে আরও ৫০ নম্বর (এসএসসি জিপিএ x ৪ + এইচএসসি জিপিএ x ৬) যোগ করে মোট ১৫০ নম্বরের মধ্যে মেরিট লিস্ট তৈরি করা হয়।
সরকারি কলেজে চান্স পেতে হলে সাধারণত ছেলেদের জন্য স্কোর একটু বেশি লাগে, কারণ ছেলেদের সিট সংখ্যা কম। মেয়েদের ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। তাই জিপিএ ভালো থাকলে আপনার এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা বেশি।
লেখকের শেষ কথা
নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি 2026 দেখে প্রস্তুতি শুরু করবেন, এই ভুলটি ভুলেও করবেন না। আজ থেকেই শুরু করুন। নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ, ইংরেজি গ্রামার, এবং সাধারণ জ্ঞানের জন্য এমপি৩ বা জুবায়ের’স জিকে বইগুলো দেখতে পারেন।
বিএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর মূল বইয়ের বিকল্প নেই। আর ডিপ্লোমা পরীক্ষার্থীরা সাধারণ বিজ্ঞান ও গণিতের জন্য নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বইগুলো ভালো করে ঝালিয়ে নিন। বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন গাইড বই ও প্রশ্ন ব্যাংক সমাধান করাটা খুব জরুরি। এতে প্রশ্নের প্যাটার্ন সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া যায়।